আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা জীবনে সফল হতে চান, কাজে বরকত চান এবং সারাদিন ফুরফুরে মেজাজে কাটাতে চান। কিন্তু প্রতিদিন সকালে অ্যালার্ম বাজার পরও অলসতার কারণে বিছানা ছাড়তে পারেন না। অথচ, সকালের এই প্রাথমিক সময়টাতে মহান আল্লাহ তাআলা এমন এক অলৌকিক বরকত লুকিয়ে রেখেছেন, যা আমাদের জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। আজ আমরা জানবো ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার ৫টি অবিশ্বাস্য বরকত এবং কীভাবে সুন্নাহসম্মত উপায়ে খুব সহজেই আমরা এই অভ্যাসটি নিজেদের জীবনে গড়ে তুলতে পারি।
আধুনিক বিজ্ঞান ও সফল মানুষদের জীবনীর দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি সফল মানুষই খুব ভোরে বিছানা ছাড়েন। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য ভোরবেলা ওঠার গুরুত্ব আরও অনেক বেশি। কারণ, এটি কেবল দুনিয়াবি উপকারই আনে না, বরং আমাদের আখেরাতকেও উজ্জ্বল করে। আমাদের প্রিয় নবী ﷺ ভোরবেলার সময়ের জন্য বিশেষ দোয়া করেছেন। আসুন প্রথমে জেনে নেওয়া যাক এই সময়ে কী কী অলৌকিক বরকত লুকিয়ে আছে।
ভোরবেলার সময়টা আর দশটা সাধারণ সময়ের মতো নয়। এই সময়ে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও রিযিক বণ্টিত হয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ উম্মতের জন্য দোয়া করতে গিয়ে বলেছেন:
যেই সময়ের জন্য স্বয়ং নবীজী ﷺ বরকতের দোয়া করেছেন, সেই সময়টা যে কতখানি কল্যাণময় হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। যারা ভোরে ওঠেন, তারা কাজের জন্য দীর্ঘ সময় পান, তাদের মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি থাকে এবং তাদের রিজিকেও অভাব দূর হয়ে যায়।
ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যারা সকালে উঠতে পারেন না, তারা যদি নিচের ৫টি সুন্নাহসম্মত নিয়ম ও কৌশল মেনে চলেন, তবে ইনশাআল্লাহ কোনো কষ্ট ছাড়াই ভোরবেলা ঘুম ভাঙবে:
পুষ্টিবিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, সকালের তাজা বাতাস এবং ভোরের শান্ত পরিবেশ মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ভোরে উঠলে শরীরের 'কর্টিসল' হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে, যা মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা কমায়। তাছাড়া, সকালে তাড়াতাড়ি উঠলে রাতে গভীর ও সুস্বাদু ঘুম হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্ট এবং লিভারকে সুস্থ রাখে।
ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা কেবল একটি অভ্যাস নয়, এটি একটি সফল ও বরকতময় জীবনের চাবিকাঠি। প্রথম প্রথম দু-একদিন একটু কষ্ট হলেও, নিয়মিত আমল ও অভ্যাসের মাধ্যমে এটি আপনার জীবনের সেরা একটি পরিবর্তন এনে দেবে।
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোন, অলসতার কারণে আমাদের সমাজের বহু মানুষ প্রতিদিন সকালের এই অলৌকিক বরকত ও ফজিলত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সুন্নাহর বার্তাটি এবং কল্যাণকর টিপসগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে আর্টিকেলটি এখনই আপনার ফেসবুক প্রোফাইল বা ইসলামিক গ্রুপগুলোতে অবশ্যই শেয়ার করুন।