বর্তমান যুগের ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ভবিষ্যৎ বাণী

বর্তমান যুগের ফিতনা ইসলামিক আর্টিকেল

বর্তমান যুগে চারদিকে ফিতনা ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো— রাসূলুল্লাহ ﷺ এই ফিতনাগুলোর অনেকটাই আগেই বলে গেছেন। সহীহ হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা।

বর্তমান যুগে আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি, যেখানে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। মানুষ বাহ্যিকভাবে উন্নত হলেও আধ্যাত্মিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো— রাসূলুল্লাহ ﷺ এই সময় সম্পর্কে বহু আগেই আমাদের সতর্ক করে গেছেন।

১. ফিতনা অন্ধকার রাতের মতো আসবে

“তোমরা দ্রুত সৎকর্মে অগ্রসর হও, কারণ এমন ফিতনা আসবে যা হবে অন্ধকার রাতের মতো। মানুষ সকালে মুমিন থাকবে, সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে; সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে, সকালে কাফির হয়ে যাবে।”
— সহীহ মুসলিম: 118

এই হাদিস আমাদের একটি ভয়াবহ বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে। আজ আমরা দেখি— মানুষ খুব দ্রুত মত পরিবর্তন করছে, ঈমান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, এবং বিভ্রান্তিকর চিন্তা-ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়া, ভ্রান্ত মতবাদ, নাস্তিকতা ও ভুল ব্যাখ্যা— এগুলো এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে একজন সাধারণ মানুষের জন্য সত্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

২. জ্ঞান উঠে যাবে, অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়বে

“আল্লাহ জ্ঞানকে সরিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের মৃত্যু দ্বারা জ্ঞান তুলে নেবেন। তারপর মানুষ অজ্ঞদেরকে নেতা বানাবে, তারা না জেনে ফতোয়া দেবে এবং নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে।”
— সহীহ বুখারী: 100

বর্তমানে আমরা এই বাস্তবতা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি। প্রকৃত আলেমদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, আর মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া বা অযোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে দীন শিখছে।

এর ফলে ভুল ফতোয়া, বিভ্রান্তি এবং দ্বীনের বিকৃতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে—যা একটি বড় ফিতনা।

৩. ব্যভিচার ও অশ্লীলতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে

“কিয়ামতের আগে ব্যভিচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।”
— সহীহ বুখারী: 80

আজকের সমাজে আমরা দেখি— অশ্লীলতা আর লজ্জার বিষয় নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটিকে “স্বাধীনতা” হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

সিনেমা, নাটক, ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে হারাম জিনিসগুলো সহজলভ্য হয়ে গেছে। ফলে মানুষের অন্তর কঠিন হয়ে যাচ্ছে এবং গুনাহকে গুনাহ মনে হচ্ছে না।

৪. মিথ্যা ও প্রতারণা বৃদ্ধি পাবে

“শেষ যুগে মিথ্যাবাদী ও প্রতারকরা বৃদ্ধি পাবে।”
— সহীহ মুসলিম: 157

বর্তমান যুগে আমরা দেখি— মিথ্যা সংবাদ (fake news), প্রতারণা, ভুয়া প্রচারণা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

অনেক সময় মানুষ সত্য যাচাই না করেই মিথ্যা প্রচার করছে, যা সমাজে বিভ্রান্তি ও অশান্তি সৃষ্টি করছে।

৫. দুনিয়াকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দেওয়া

“মানুষ দুনিয়ার জন্য আখিরাতকে বিক্রি করবে।”
— সহীহ মুসলিম: 188

আজকের যুগে অনেক মানুষ হালাল-হারামের চিন্তা না করে শুধু দুনিয়ার লাভের পিছনে ছুটছে।

নামাজ, কুরআন, ইবাদত— এগুলো অনেকের জীবনে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। অথচ দুনিয়ার সাময়িক লাভের জন্য মানুষ নিজের আখিরাত নষ্ট করছে।

৬. দাজ্জালের ফিতনা (সবচেয়ে বড় পরীক্ষা)

“দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে বড় কোনো ফিতনা নেই।”
— সহীহ মুসলিম: 2937

দাজ্জাল এখনো পৃথিবীতে আসেনি, কিন্তু তার আগমনের পূর্বাভাস আজকের অনেক ফিতনার মধ্যে দেখা যায়।

সত্যকে মিথ্যা হিসেবে দেখানো, মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা— এই প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আমাদের করণীয়

এই ফিতনার যুগে একজন মুমিনের করণীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • কুরআন ও সুন্নাহ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
  • গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করা
  • সৎ ও দ্বীনদার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা
  • ফিতনার পরিবেশ থেকে দূরে থাকা
  • বেশি বেশি দো‘আ করা ও আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া

উপসংহার

বর্তমান যুগের ফিতনা নতুন কিছু নয়— বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের আগেই সতর্ক করে গেছেন।

তাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো— নিজের ঈমানকে রক্ষা করা এবং সত্যের উপর অটল থাকা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে ফিতনার যুগে ঈমান রক্ষা করার তাওফিক দান করুন, আমীন।


যদি এই আর্টিকেলটি আপনার কাছে উপকারী মনে হয়, তাহলে দয়া করে এটি আপনার বন্ধু ও পরিবারের মাঝে শেয়ার করুন। হতে পারে আপনার একটি শেয়ারের মাধ্যমে কেউ ফিতনা সম্পর্কে সচেতন হবে এবং সঠিক পথে ফিরে আসবে—ইনশাআল্লাহ।