একটি সুন্দর ইসলামী সমাজ এবং আদর্শ পরিবার গড়ে তোলার মূল ভিত্তি হলো পুরুষের দায়িত্বশীলতা। ইসলাম পুরুষকে কেবল অর্থ উপার্জন করার একটি মাধ্যম বানায়নি, বরং তাকে পুরো পরিবারের রক্ষা, স্ত্রী-সন্তানের হক আদায় এবং সুন্দর চরিত্র বজায় রাখার এক বড় দায়িত্ব দিয়েছে। মুসলিম পুরুষের আসল দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো কী এবং কীভাবে তিনি নিজের পরিবারকে সঠিক দ্বীনি মূল্যবোধে পরিচালনা করবেন, আসুন আজ তা সহজ ভাষায় জেনে নিই।
পবিত্র কুরআনে পুরুষকে পরিবারের অভিভাবক বা **'কাওয়ামুন'** হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের সমাজে অনেকে এই 'কর্তৃত্ব' শব্দটিকে ভুল বোঝেন। তারা মনে করেন এর অর্থ বুঝি স্ত্রীর ওপর ক্ষমতা দেখানো বা নির্যাতন করার অধিকার। কিন্তু আসলে এর অর্থ সম্পূর্ণ উল্টো। ইসলামে এর প্রকৃত অর্থ হলো— পরিবারের প্রতি **অর্থনৈতিক, নৈতিক এবং দ্বীনি নিরাপত্তা** নিশ্চিত করার এক বিশাল গুরুদায়িত্ব।
মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে পুরুষদের এই বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে ইরশাদ করেছেন:
এই আয়াতটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, পুরুষের প্রধান দায়িত্ব হলো তাঁর নিজের উপার্জিত অর্থ থেকে পরিবারের জন্য খরচ করা, তাদের অন্ন, বস্ত্র ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। এই কঠিন দায়িত্ব সততার সাথে পালন করার মাধ্যমেই একজন পুরুষ আল্লাহর কাছে সম্মানের অধিকারী হন।
আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ পুরুষের আচরণের একটি সুন্দর মানদণ্ড ঠিক করে দিয়ে বলেছেন: **“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।”** (তিরমিযী, হাদিস: ১১৬২)। এই হাদিসের আলোকে একজন মুসলিম পুরুষের প্রধান কর্তব্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ইসলাম একজন পুরুষকে শুধু ঘরের ভেতরেই নয়, বরং বাইরের সমাজেও একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে দেখতে চায়। একজন প্রকৃত মুসলিম পুরুষের উচিত তাঁর মুখ, চোখ এবং সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে হারাম কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখা এবং সর্বদা সত্যের পথে চলা।
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: **“কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামার পাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী জিনিস আর কিছুই হতে পারে না।”** (তিরমিযী, হাদিস: ২০০২)। তাই বাইরে ভদ্রতা আর ঘরের ভেতর রাগ দেখানো—ইসলামের শিক্ষা নয়, বরং সব জায়গায় শান্ত ও সুন্দর ব্যবহার করাই পুরুষের আসল পরিচয়।
পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে একজন মুসলিম পুরুষের ওপর কিছু সামাজিক দায়িত্বও অর্পণ করা হয়েছে:
সহজ কথায় বলতে গেলে, একজন মুসলিম পুরুষের আসল সফলতা কিন্তু তাঁর ব্যাংক ব্যালেন্স, অনেক বেশি অর্থ-সম্পদ বা সমাজের বড় কোনো পদমর্যাদার ওপর নির্ভর করে না। বরং তাঁর আসল সফলতা নির্ভর করে তাঁর ভেতরের **তাকওয়া (খোদাভীতি), সুন্দর চরিত্র এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার** ওপর।
যখন একজন পুরুষ তাঁর মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তান, সমাজ এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর দেওয়া দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারেন, তখনই তিনি আল্লাহর দরবারে একজন সফল পুরুষ হিসেবে বিবেচিত হন।
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোন, একটি সুন্দর ও আদর্শ পরিবার গড়ে তুলতে পুরুষের এই দায়িত্বগুলো জানা এবং মানা অত্যন্ত জরুরি। তাই সমাজের সকল ভাইদের সচেতন করতে এবং ইসলামের এই সুন্দর শিক্ষাটি পৌঁছে দিতে আর্টিকেলটি অবশ্যই আপনার ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।