ইসলাম পুরুষকে পরিবার রক্ষা, স্ত্রী-সন্তানের হক আদায় এবং সুন্দর চরিত্র বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। মুসলিম পুরুষের দায়িত্ব কেবল অর্থ উপার্জন নয়, বরং পরিবারকে সঠিক ইসলামী মূল্যবোধে পরিচালিত করা।
ইসলামী সমাজ ও পরিবারের মূল ভিত্তি হলো পুরুষের দায়িত্বশীলতা। কুরআনে পুরুষকে পরিবারের কর্তা বা **'কাওয়ামুন'** হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্তৃত্ব কোনো ক্ষমতা বা নির্যাতনের অধিকার দেয় না, বরং এর অর্থ হলো— পরিবারের প্রতি **অর্থনৈতিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক নিরাপত্তা** নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
এই আয়াত স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছে যে পুরুষের প্রধান দায়িত্ব হলো **অর্থনৈতিক ভরণপোষণ** এবং **নিরাপত্তা** প্রদান করা। এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সে মর্যাদা লাভ করে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: **“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম।”** (তিরমিযী, হাদীস ১১৬২) এটি মুসলিম পুরুষের আচরণের মানদণ্ড।
ইসলাম একজন পুরুষকে শুধু পরিবারের রক্ষক হিসেবেই নয়, বরং সমাজের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবেও দেখতে চায়। পুরুষের উচিত তার জিহ্বা, চোখ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে হারাম থেকে রক্ষা করা এবং সর্বদা সত্যবাদী হওয়া।
হাদীসে এসেছে, রাসূল ﷺ বলেন, **“কিয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী জিনিস আর কিছুই হবে না।”** (তিরমিযী, হাদীস ২০০২)
পরিবারের বাইরেও মুসলিম পুরুষের কিছু সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে:
মুসলিম পুরুষের প্রতিটি সৎকাজই ইবাদত, যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়।
একজন মুসলিম পুরুষের সফলতা তার অর্থ-সম্পদ বা সামাজিক পদমর্যাদার উপর নির্ভর করে না, বরং তার **তাকওয়া, উত্তম চরিত্র এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের** ওপর নির্ভর করে। যখন একজন পুরুষ তার পরিবার, সমাজ এবং আল্লাহর কাছে তার দায়িত্বগুলি সঠিকভাবে পালন করেন, তখনই তিনি আল্লাহর কাছে সফল বলে বিবেচিত হন।