পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ আমাদের মাঝে নিয়ে আসে এক মহান ত্যাগের আনন্দ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা পছন্দের পশু কুরবানি করে থাকি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, অসচেতনতার কারণে কুরবানির পর পশুর রক্ত, গোবর ও বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়, যা চারপাশের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে। আমাদের এই সামান্য ভুলের কারণে যদি সাধারণ মানুষের চলাচলে কষ্ট হয়, তবে কি আমাদের কুরবানির আসল উদ্দেশ্য সফল হবে? আসুন খুব সহজ ভাষায় জেনে নিই পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে ইসলামের নির্দেশনা ও আমাদের নাগরিক দায়িত্বগুলো কী কী।
কুরবানি কেবল একটি পশু জবেহ করার প্রথা নয়, এটি মানুষের ভেতরের অহংকার, স্বার্থপরতা ও পশুত্বকে বিসর্জন দেওয়ার এক অনন্য ইবাদত। কিন্তু আমরা অনেকেই কোরবানির চামড়া ছাড়ানো বা মাংস কাটার পর পেছনের ময়লা ও রক্ত পরিষ্কার করার কথা ভুলে যাই।
রাস্তাঘাটে পশুর বর্জ্য ও রক্ত পড়ে থাকার কারণে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়, মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ে এবং নানা রকমের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। ইসলাম যেহেতু একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, তাই এই পবিত্র দিনে নিজের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়াও ইসলামের এক বড় শিক্ষা।
ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতাকে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে, একে সরাসরি ইমানের অংশ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন:
এর মানে হলো, একজন মানুষের ইমান তখনই পূর্ণতা পায় যখন সে ভেতর ও বাহির—উভয় দিক থেকেই পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকে। কুরবানির মতো একটি মহান ইবাদত করার পর যদি আমরা নিজের এলাকা নোংরা করে রাখি, তবে তা ইসলামের এই মহান শিক্ষার সম্পূর্ণ বিরোধী।
রাস্তায় পশুর রক্ত বা ময়লা ফেলে রাখলে পথচারী ও প্রতিবেশীদের প্রচণ্ড কষ্ট হয়। কাউকে কষ্ট দিয়ে বা জনদুর্ভোগ তৈরি করে আল্লাহর সন্তুষ্টি আশা করা যায় না। প্রকৃত মুসলিমের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন:
অন্য একটি হাদিসে রাস্তা থেকে ক্ষতিকর বস্তু বা ময়লা সরিয়ে দেওয়াকে একটি অন্যতম বড় ‘সদকা’ বা সওয়াবের কাজ হিসেবে বলা হয়েছে। তাই কুরবানির বর্জ্য রাস্তার ওপরে বা ড্রেনে ফেলে মানুষের কষ্টের কারণ হওয়া কোনো আদর্শ মুসলিমের কাজ হতে পারে না।
ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশকে সুন্দর রাখতে আমাদের কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার:
পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু সরকারের বা পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের একার নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এটি আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব। আমরা যদি সবাই নিজেদের বাড়ির সামনের অংশটুকু পরিষ্কার করার দায়িত্ব নিই, তবে পুরো দেশটাই মুহূর্তের মধ্যে সুন্দর হয়ে উঠবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের অসচেতনতার কারণে যদি ডেঙ্গু বা অন্য কোনো রোগ ছড়ায়, তবে তার দায় আমাদের ওপরই বর্তাবে।
সহজ কথায় বলতে গেলে— **কুরবানি আমাদের ত্যাগের পাশাপাশি দায়িত্বশীল হতে শেখায়।** মহান আল্লাহর দরবারে আমাদের কুরবানির পশুর রক্ত বা মাংস কিছুই পৌঁছায় না; পৌঁছায় কেবল আমাদের মনের ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি।
আসুন, এই ঈদুল আজহায় আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি—আমরা যেমন সুন্দরভাবে আল্লাহর দেওয়া বিধান মেনে কুরবানি দেব, ঠিক তেমনি আমাদের চারপাশের পরিবেশকে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখব। আমাদের কুরবানি যেন কারো কষ্টের কারণ না হয়ে, সবার জন্য আনন্দের কারণ হয়।
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোন, কুরবানির এই পবিত্র দিনে পরিবেশ সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। তাই সমাজের সবাইকে সচেতন করতে এবং ইসলামের এই সুন্দর শিক্ষাটি পৌঁছে দিতে আর্টিকেলটি এখনই আপনার ফেসবুক বা অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্যই শেয়ার করুন।