পানি আমাদের জীবনের অপর নাম। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন আমাদের পর্যাপ্ত পানি পান করতে হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, পানি পানের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে যা অমান্য করলে আমাদের শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে পানি পানের অত্যন্ত চমৎকার কিছু সুন্নাহ নিয়ম শিখিয়ে গেছেন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মানব শারীরবৃত্তি (Human Physiology) নিয়ে গবেষণা করে চিকিৎসকেরা এখন বলছেন, নবীজী ﷺ এর দেখানো নিয়মেই লুকিয়ে আছে সুস্থ থাকার আসল রহস্য। আসুন আজ জেনে নিই কেন আমাদের বসে এবং তিন শ্বাসে পানি পান করা উচিত।
চলতি পথে বা তাড়াহুড়োর সময় আমরা অনেকেই দাঁড়িয়ে ঢকঢক করে এক নিঃশ্বাসে বোতলের পানি খেয়ে ফেলি। আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সাধারণ একটি বিষয় মনে হলেও, আমাদের শরীরের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর ওপর এর একটি বড় রকমের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়েও চমৎকার গাইডলাইন দিয়েছে। পানি পানের সুন্নাহসম্মত নিয়মগুলো কেবল একটি ইবাদতই নয়, এটি আমাদের সুস্বাস্থ্যের গ্যারান্টি।
রাসুলুল্লাহ ﷺ দাঁড়িয়ে পানি পান করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং বসে শান্ত হয়ে পানি পানের নির্দেশ দিয়েছেন। সহীহ মুসলিমের একটি হাদিসে এসেছে:
এই হাদিস থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, দাঁড়িয়ে পানি পান করা কতটা ক্ষতিকর হতে পারে যে নবীজী ﷺ প্রয়োজনে তা বের করে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। আসুন এবার জেনে নিই এর পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণগুলো।
আধুনিক নেফ্রোলজি (Kidney Science) এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (Digestive Science)-র গবেষকেরা দাঁড়িয়ে পানি পানের ৩টি বড় বড় ক্ষতি এবং বসে খাওয়ার উপকারিতা আবিষ্কার করেছেন:
পানি পানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ হলো— এক নিঃশ্বাসে পুরো গ্লাস বা বোতলের পানি শেষ না করে অন্তত তিনবারে বা তিন শ্বাসে বিরতি দিয়ে পান করা। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
বিজ্ঞান কী বলে? যখন একজন মানুষ এক নিঃশ্বাসে দ্রুত অনেক পানি পান করে, তখন ফুসফুসে অক্সিজেন চলাচলের রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বুকের ভেতরের বাতাস বা ফুসফুসের বায়ুথলির (Alveoli) ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, তিন শ্বাসে বা তিন চুমুকে পানি পান করলে প্রতিবার বিরতির সময় আমাদের শরীর অক্সিজেন নেওয়ার সুযোগ পায়। এতে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে, কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং হঠাৎ করে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ওপর কোনো চাপ পড়ে না। এছাড়া বিরতি দিয়ে পানি খেলে লালা (Saliva) পানির সাথে মিশে পাকস্থলীতে যায়, যা পাকস্থলীর এসিডিটি দ্রুত প্রশমিত করতে সাহায্য করে।
পরপর এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার পানি পান করাও একটি বড় ইবাদতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ:
বিজ্ঞান আজ যে বিষয়গুলো প্রমাণ করছে, ইসলাম আমাদের তা অনেক আগেই শিখিয়ে দিয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসগুলো যদি সুন্নাহ মোতাবেক পরিবর্তন করতে পারি, তবে বহু রোগবালাই থেকে আমরা প্রাকৃতিকভাবেই মুক্ত থাকতে পারব।
প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোন, আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত বহু মানুষ দাঁড়িয়ে বা এক নিঃশ্বাসে পানি পানের এই ক্ষতিকর অভ্যাসে অভ্যস্ত। এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সুন্নাহর আমলটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে আর্টিকেলটি এখনই আপনার ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্যই শেয়ার করুন।