জুমা কী?
জুমার নামাজের পরিচয় ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানুন।
পড়ুন →শুক্রবারের বিশেষ ইবাদত জুমার নামাজের গুরুত্ব, প্রস্তুতি, খুতবা, দুই রাকাআত ফরজ এবং গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সহজভাবে জানুন।
শুক্রবার যোহরের সময় জামাতের সঙ্গে বিশেষ পদ্ধতিতে যে নামাজ আদায় করা হয়, তাকে জুমার নামাজ বলা হয়।
জুমার দিন মুসলিমদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন। এ দিনে মুসলিমরা একত্রিত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, খুতবা শোনে এবং জামাতে জুমার নামাজ আদায় করে।
জুমার নামাজের বিধান ব্যক্তির অবস্থা, সামর্থ্য ও শরিয়তের শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। অসুস্থতা, সফর বা অন্যান্য শরয়ি ওজরের ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন হতে পারে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে জুমার দিনের নামাজের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ
অর্থের সারাংশ: হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।
সূত্র: সূরা আল-জুমুআহ, ৬২:৯
শুক্রবার মসজিদে যাওয়ার আগে পরিচ্ছন্নতা ও সুন্নাহসম্মত প্রস্তুতি নেওয়া উত্তম।
জুমার দিনের জন্য গোসল করার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
শরীর, পোশাক ও মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতিতে পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দিন।
পুরুষদের জন্য জুমার দিনে সুগন্ধি ব্যবহার করার ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহ এসেছে।
পরিষ্কার ও পরিপাটি পোশাক পরে মসজিদে যাওয়া উত্তম।
জুমার জন্য আগে আগে মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
শুক্রবার রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সূরা আল-কাহফ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়।
তাই শুক্রবার সূরা আল-কাহফ পড়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
কুরআন তিলাওয়াতের সময় সঠিক উচ্চারণ ও তাজবিদের প্রতি গুরুত্ব দিন।
জুমার নামাজের আগে ইমাম খুতবা প্রদান করেন। খুতবা জুমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিসে খুতবার সময় নীরব থাকার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব এসেছে।
জুমার নামাজের ফরজ হলো দুই রাকাআত এবং তা জামাতের সঙ্গে আদায় করা হয়।
খুতবার পর ইমামের সঙ্গে দুই রাকাআত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়।
অন্তরে জুমার দুই রাকাআত ফরজ নামাজ আদায়ের ইচ্ছা রাখুন।
ইমামের সঙ্গে তাকবির বলে নামাজ শুরু করুন।
ইমামের অনুসরণ করে প্রথম রাকাআত আদায় করুন।
ইমামের অনুসরণ করে দ্বিতীয় রাকাআত সম্পন্ন করুন।
দ্বিতীয় রাকাআতের শেষে বসে তাশাহহুদ, দরুদ ও মাসনুন দোয়া পাঠ করা হবে।
ইমামের অনুসরণ করে ডানে ও বামে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন।
জুমার ফরজ নামাজের কিরাআত ও অন্যান্য আমলে ইমামের অনুসরণ করা জরুরি।
জামাতে জুমার নামাজ আদায় করার সময় মুক্তাদির উচিত ইমামের অনুসরণ করা এবং জামাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
ইমামের আগে রুকু, সিজদা বা অন্য কোনো নামাজের কাজ করা উচিত নয়।
কেউ যদি জুমার জামাতে দেরিতে পৌঁছায়, তাহলে ইমাম যে অবস্থায় আছেন সেই অবস্থায় নামাজে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করবে।
জুমার কতটুকু জামাত পাওয়া গেলে জুমা হিসেবে গণ্য হবে এবং কতটুকু না পেলে যোহর আদায় করতে হবে— এ বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
তাই বাস্তব পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মাসআলা জেনে নেওয়া উত্তম।
কোনো ব্যক্তি যদি শরয়ি ওজর ছাড়া জুমার নামাজ অবহেলা করে ছেড়ে দেয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।
আর যদি কোনো ব্যক্তি জুমার নামাজ পাওয়ার মতো জামাত না পায়, তাহলে জুমার পরিবর্তে যোহরের নামাজ আদায় করার বিধান রয়েছে।
ঠিক কখন জুমা ছুটে গেছে এবং কত রাকাআত পাওয়া গেছে—তার ওপর বিধান নির্ভর করতে পারে। তাই সন্দেহ হলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জেনে নিন।
নারীদের ওপর জুমার নামাজ পুরুষদের মতো একইভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তবে নারী যদি মসজিদে গিয়ে জুমার জামাতে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেন।
নারীদের মসজিদে যাওয়া ও জামাতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শরিয়তের পর্দা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধান মেনে চলতে হবে।
সফরের অবস্থায় জুমার বিধান সাধারণ বাসিন্দার বিধানের মতো নয়। মুসাফিরের জন্য জুমা ফরজ হওয়ার বিষয়টি ফিকহের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
আপনি যদি সফরে থাকেন, তাহলে নিজের নির্দিষ্ট অবস্থার ভিত্তিতে একজন যোগ্য আলেমের কাছ থেকে বিধান জেনে নিন।
খুতবার সময় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা উচিত।
জুমার জন্য আগে প্রস্তুত হয়ে মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
জামাতে কাতার সোজা ও পূর্ণ রাখার চেষ্টা করুন।
খুতবা ও নামাজের সময় মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
ইমামের আগে রুকু বা সিজদায় যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
মসজিদে যাওয়ার আগে শরীর, পোশাক ও মুখের পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দিন।
জামাতে নামাজের নিয়ম, কাতার ও মাসবুকের বিধান জানুন।
বিস্তারিত দেখুন →নামাজে ভুল হলে সাহু সিজদার নিয়ম ও বিধান জানুন।
বিস্তারিত দেখুন →নামাজে পড়ার প্রয়োজনীয় দোয়া ও সূরা শিখুন।
বিস্তারিত দেখুন →