ইসলামের ৩য় স্তম্ভ

যাকাতের বিস্তারিত বিধান ও গাইডলাইন

যাকাত কার ওপর ফরজ, নেসাবের সঠিক পরিমাপ এবং বন্টনের সঠিক খাতসমূহ

যাকাত কী ও এর গুরুত্ব

'যাকাত' (الزكاة) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ পবিত্রতা, বৃদ্ধি ও বরকত। পারিভাষিক অর্থে—আল্লাহ নির্ধারিত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কর্তৃক নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ (২.৫%) কুরআন নির্ধারিত ৮টি খাতের হকদারদের হাতে নিঃশর্তভাবে মালিক বানিয়ে দেওয়াকে যাকাত বলে।

“তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর...”

— সূরা আল-বাকারা: ৪৩

যাকাত ফরজ হওয়ার মূল শর্ত

  • মুসলিম হওয়া: অমুসলিমের ওপর যাকাত ফরজ নয়।
  • স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া: সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বালেগ হওয়া।
  • নেসাবের মালিক হওয়া: নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ ও ঋণ বাদে অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা।
  • এক বছর পূর্ণ হওয়া (হাওলানুল হাওল): নেসাব পরিমাণ সম্পদ ব্যক্তির কাছে পূর্ণ এক চন্দ্রবছর বলবৎ থাকা।
  • সম্পদের বর্ধনশীলতা: সম্পদটি বাস্তবে বা সম্ভাবনায় বর্ধনশীল (যেমন নগদ অর্থ, সোনা-রুপা, বা ব্যবসার পণ্য) হওয়া।

নেসাব ও তার আধুনিক পরিমাপ

নেসাব হলো শরিয়ত নির্ধারিত সর্বনিম্ন সম্পদের সীমা, যা থাকলে যাকাত দিতে হয়:

স্বর্ণের নেসাব ৭.৫ তোলা প্রায় ৮৭.৪৮ গ্রাম খাঁটি সোনা
রৌপ্যের নেসাব (সর্বজনীন) ৫২.৫ তোলা প্রায় ৬১২.৩৬ গ্রাম খাঁটি রূপা
কারো কাছে যদি শুধু নগদ টাকা, ব্যবসার মালপত্র থাকে অথবা সোনা ও রূপা উভয়ই কিছু পরিমাণে থাকে, তবে অধিকাংশ ফকিহদের মতে গরীবদের সর্বাধিক কল্যাণে রূপার নেসাবকেই মানদণ্ড ধরা উত্তম।

যেসব সম্পদে যাকাত আসে

  • হাতে থাকা নগদ টাকা, প্রাইজবন্ড ও ব্যাংকে রক্ষিত যেকোনো ব্যালেন্স।
  • সোনা-রুপার অলংকার বা বার (ব্যবহারের হোক কিংবা জমানো)।
  • ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত যাবতীয় পণ্য বা স্টকের বর্তমান বাজারমূল্য।
  • শেয়ারবাজার বা ব্যবসায়িক শেয়ারে বিনিয়োগকৃত অর্থ।
  • কাউকে দেওয়া ফেরতযোগ্য ঋণ, যা পাওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।

যেসব সম্পদে যাকাত দিতে হয় না

  • বসবাসের বাড়ি বা জমি (যা বিক্রির উদ্দেশ্যে নয়)।
  • ব্যবহার্য গাড়ি, ব্যক্তিগত কাপড়-চোপড় ও গৃহস্থালির আসবাবপত্র।
  • পেশাগত কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও ফ্যাক্টরির মেশিন।
  • সোনা ও রূপা ছাড়া অন্যান্য রত্নপাথর (হীরা, মুক্তা ইত্যাদি—যদি তা বিক্রির নিয়তে না থাকে)।

যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত খাতসমূহ

পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাকাতের ৮টি সুনির্দিষ্ট খাত ঘোষণা করা হয়েছে:

  1. ফকির: যার সামান্য সম্পদ আছে কিন্তু নেসাব পরিমাণ নেই।
  2. মিসকিন: যার কোনো সহায়-সম্বল বা সম্পদ নেই।
  3. যাকাতকর্মী: সরকার বা কর্তৃপক্ষ নিয়োজিত যাকাত সংগ্রাহক।
  4. মন জয় করার উদ্দেশ্যে: নওমুসলিম বা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে।
  5. দাসমুক্তি: বন্দি বা কৃতদাস মুক্ত করার কাজে।
  6. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি: যিনি ঋণ পরিশোধে অক্ষম।
  7. ফি-সাবিলিল্লাহ: আল্লাহর রাস্তায় দ্বীনের প্রচার ও জিহাদরতদের জন্য।
  8. মুসাফির: সফরে বিপদে পড়া নিঃস্ব পর্যটক (যদিও নিজ দেশে ধনী হোন)।

আপনার হিসাব নিখুঁতভাবে করতে এখনই ক্যালকুলেটরে চলে যান:

যাকাত ক্যালকুলেটরে যান