জানাজার নামাজ কী?
জানাজার নামাজের পরিচয় ও গুরুত্ব জানুন।
পড়ুন →মৃত মুসলিমের জন্য জানাজার নামাজের গুরুত্ব, প্রস্তুতি, চার তাকবির, জানাজার দোয়া এবং নামাজের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সহজভাবে জানুন।
কোনো মুসলিম ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য যে বিশেষ নামাজ আদায় করা হয়, তাকে জানাজার নামাজ বলা হয়।
জানাজার নামাজ মূলত মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও মাগফিরাতের দোয়া।
জানাজার নামাজে রুকু ও সিজদা নেই। এতে দাঁড়িয়ে চার তাকবির বলা হয় এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা হয়।
জানাজার নামাজ মুসলিমের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব।
রাসূলুল্লাহ ﷺ জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ ও মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ জানাজার সঙ্গে থাকার ফজিলত সম্পর্কে সাহাবিদের উৎসাহিত করেছেন।
সূত্র: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
মুসলিম মৃত ব্যক্তির গোসলের শরয়ি বিধান রয়েছে। যোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা হয়।
মৃত ব্যক্তিকে শরিয়তসম্মত কাফন পরানো হয়।
মৃত ব্যক্তিকে জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুসলিমদের জানাজার জামাতে অংশগ্রহণ করে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা উচিত।
জানাজার নামাজে সাধারণভাবে চার তাকবির বলা হয়।
ইমামের সঙ্গে প্রথম তাকবির বলে নামাজ শুরু করুন। এরপর নির্ধারিত পদ্ধতিতে সানা পাঠ করা হয়।
দ্বিতীয় তাকবির বলার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর দরুদ পাঠ করা হয়।
তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত ও রহমতের দোয়া করা হয়।
চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফিরিয়ে জানাজার নামাজ শেষ করা হয়।
অন্তরে মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ আদায়ের নিয়ত করুন এবং ইমামের অনুসরণ করুন।
ইমাম তাকবির বললে তাকবির বলে নামাজ শুরু করুন।
এরপর প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী সানা পাঠ করা হয়।
দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পাঠ করুন।
তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাতের দোয়া করুন।
চতুর্থ তাকবিরের পর ইমামের অনুসরণ করে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন।
প্রথম তাকবিরের পর জানাজার সানা পড়ার প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে।
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَىٰ جَدُّكَ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ، وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা আপনার পবিত্রতা ও প্রশংসা ঘোষণা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সর্বোচ্চ, আপনার প্রশংসা মহান এবং আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।
দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদে ইবরাহিম পাঠ করা হয়।
নামাজে পাঠ করা দরুদে ইবরাহিম আপনার পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য নামাজের দোয়ার বই থেকে শুদ্ধভাবে শিখে নিন।
তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত, রহমত ও ক্ষমার দোয়া করা হয়।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ
অর্থের সারাংশ: হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, তার প্রতি রহম করুন, তাকে নিরাপদ রাখুন এবং তাকে ক্ষমা করে দিন। তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, তার প্রবেশস্থান প্রশস্ত করুন এবং তাকে পানি, বরফ ও শিলার মাধ্যমে পবিত্র করুন।
জানাজার দোয়ার একাধিক সহিহ বর্ণনা রয়েছে। তাই সহিহ হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলো শেখা উত্তম।
অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর জানাজার ক্ষেত্রে শিশুর জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
শিশু ছেলে না মেয়ে এবং কোন বয়সে মৃত্যু হয়েছে— তার ভিত্তিতে দোয়ার শব্দে কিছু পার্থক্য হতে পারে।
তাই শিশুর জানাজার দোয়া নির্ভরযোগ্য আলেম বা সহিহ দোয়ার গ্রন্থ থেকে শিখে নেওয়া উত্তম।
জানাজার নামাজে মৃত ব্যক্তিকে সামনে রেখে ইমাম দাঁড়ান।
মৃত ব্যক্তি পুরুষ না নারী— তার ওপর ইমামের অবস্থানের বিষয়ে হাদিসে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে এবং ফিকহে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় মসজিদের নির্ভরযোগ্য ইমাম যে পদ্ধতিতে জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন, জামাতের স্বার্থে তার অনুসরণ করুন।
জানাজার নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা হয় এবং মুসল্লিরা ইমামের পেছনে কাতারে দাঁড়ান।
কাতার সোজা রাখা এবং মুসল্লিদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা উচিত।
জানাজার নামাজ সাধারণ নামাজের মতো নয়।
এতে রুকু, সিজদা, বৈঠক ও কিরাআতের সাধারণ কাঠামো নেই।
দাঁড়িয়ে চার তাকবির বলা হয় এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা হয়।
কেউ যদি জানাজার নামাজে দেরিতে পৌঁছায়, তাহলে ইমাম যে অবস্থায় আছেন সেই অবস্থায় জামাতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করবে।
ইমামের সঙ্গে কত তাকবির পাওয়া গেছে এবং বাকি তাকবির কীভাবে পূরণ করতে হবে—এ বিষয়ে ফিকহি মতভেদ রয়েছে।
তাই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের নির্দেশনা গ্রহণ করুন।
কোনো মুসলিমের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করা উত্তম মুসলিম চরিত্রের অংশ।
শোকাহত পরিবারের ওপর অপ্রয়োজনীয় সামাজিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
জানাজার নামাজে রুকু ও সিজদা নেই।
জানাজার সময় মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ইবাদতে মনোযোগী থাকুন।
জামাতে ইমামের অনুসরণ করা উচিত।
কাতার সোজা রাখুন এবং মুসল্লিদের জন্য জায়গা তৈরি করুন।
জানাজার মূল উদ্দেশ্যের অন্যতম হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা।
ফিকহি মতভেদকে কেন্দ্র করে জানাজার পরিবেশ নষ্ট করা উচিত নয়।
ঈদের নামাজের নিয়ম, তাকবির ও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ জানুন।
বিস্তারিত দেখুন →জামাতের নিয়ম ও ইমামের অনুসরণ সম্পর্কে জানুন।
বিস্তারিত দেখুন →নামাজে পড়ার প্রয়োজনীয় দোয়া ও সূরা শিখুন।
বিস্তারিত দেখুন →