মুখমণ্ডল ধোয়া
সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধুতে হবে।
নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম অজু। কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে অজুর সঠিক পদ্ধতি ধাপে ধাপে শিখুন।
অজু হলো নির্দিষ্ট অঙ্গগুলো শরিয়তসম্মতভাবে পানি দিয়ে ধৌত ও মাসেহ করার মাধ্যমে নামাজসহ নির্দিষ্ট ইবাদতের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা।
নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালনের আগে পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে অজুর অঙ্গগুলো ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
কুরআনের সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৬-এ অজুর মৌলিক অঙ্গগুলোর নির্দেশ এসেছে।
সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধুতে হবে।
কনুইসহ দুই হাত ধুতে হবে।
মাথা মাসেহ করতে হবে।
টাখনুসহ দুই পা ধুতে হবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অজুর পদ্ধতি থেকে বিভিন্ন সুন্নাহ আমাদের জানা যায়।
নিচের ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করে অজু করতে পারেন।
অজু করার জন্য অন্তরে পবিত্রতা অর্জনের সংকল্প করুন। নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা।
অজু শুরু করার সময় বলুন:
দুই হাত কবজি পর্যন্ত ভালোভাবে ধুয়ে নিন। আঙুলের ফাঁকগুলোও পরিষ্কার করুন।
ডান হাত দিয়ে পানি নিয়ে ভালোভাবে কুলি করুন এবং মুখের ভেতর পরিষ্কার করুন।
ডান হাত দিয়ে পানি নিয়ে নাকে দিন এবং বাম হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করুন।
কপালের চুলের গোড়া থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধুয়ে নিন।
দাড়ি থাকলে তার ব্যাপারেও সুন্নাহ অনুযায়ী পানি পৌঁছানোর বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।
ডান হাত কনুইসহ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। আঙুলের ফাঁকেও পানি পৌঁছান।
একইভাবে বাম হাত কনুইসহ ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
ভেজা হাত দিয়ে মাথা মাসেহ করুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মাসেহের পদ্ধতি সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
মাথা মাসেহের সঙ্গে কান মাসেহ করার বর্ণনাও হাদিসে এসেছে।
ডান পা টাখনুসহ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। পায়ের আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছান।
বাম পা টাখনুসহ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। পায়ের আঙুলের ফাঁকেও পানি পৌঁছান।
রাসূলুল্লাহ ﷺ অজুর পর তাওহিদের সাক্ষ্য পাঠ করতে বলেছেন।
সাধারণভাবে যেসব কারণে অজু নষ্ট হওয়ার কথা ফিকহের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্রাব বা পায়খানা করলে অজু নষ্ট হয়।
পায়ুপথ দিয়ে বায়ু বের হলে অজু নষ্ট হয়।
এমন ঘুম যাতে মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তা অজু নষ্টের কারণ হতে পারে।
বিভিন্ন ফিকহি মত অনুযায়ী আরও কিছু বিষয় অজু নষ্টের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অজু ভঙ্গের কিছু বিষয় নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। যেমন স্পর্শ, রক্তপাত, বমি ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবে ভিন্ন মত পাওয়া যায়। তাই কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটলে নিজের অনুসৃত নির্ভরযোগ্য আলেম বা মাজহাবের নির্দেশনা অনুসরণ করা উত্তম।
অজুর ক্ষেত্রে পরিমিত পানি ব্যবহার করা উচিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ অল্প পানি দিয়েও অজু করতেন বলে সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
অজুর উদ্দেশ্য হলো শরিয়তসম্মতভাবে পবিত্রতা অর্জন করা; অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা নয়।
নামাজের আগে পোশাক, স্থান, কিবলা ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পর্কে জানুন।
প্রস্তুতি দেখুন →তাকবির থেকে সালাম পর্যন্ত দুই রাকাআত নামাজের পূর্ণ পদ্ধতি শিখুন।
নামাজের পদ্ধতি →নামাজে পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও সূরাগুলো শিখুন।
দোয়া ও সূরা →