সাহু সিজদা কী?
সাহু সিজদার অর্থ ও উদ্দেশ্য।
পড়ুন →নামাজে অনিচ্ছাকৃত ভুল বা ভুলে কোনো বিষয় ছুটে গেলে সাহু সিজদার বিধান সম্পর্কে সহজ ও বিস্তারিত আলোচনা।
“সাহু” অর্থ ভুলে যাওয়া বা অসতর্কতা। নামাজের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল হয়ে গেলে সেই ভুলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে অতিরিক্ত দুইটি সিজদা করা হয়, তাকে সাহু সিজদা বলা হয়।
নামাজে মানুষের ভুল হতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেও নামাজে ভুল হলে সাহু সিজদা করেছেন এবং সাহাবিদের তা শিখিয়েছেন।
সাহু সিজদা মূলত অনিচ্ছাকৃত ভুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়া হলে শুধু সাহু সিজদা করলেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যায় না।
সাহাবি আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের কেউ যখন নামাজ পড়ে এবং সে ভুলে যায়, তখন সে যেন দুটি সিজদা করে।”
সাহু সিজদার বিধান সম্পর্কে সহিহ হাদিসে একাধিক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। যেমন—রাসূলুল্লাহ ﷺ নামাজে কিছু ভুলে গেলে সাহু সিজদা করেছেন।
হাদিসের সূত্র: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে সাহু সিজদা সম্পর্কে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
নামাজে ভুলের ধরন অনুযায়ী সাহু সিজদার বিধান ভিন্ন হতে পারে।
নামাজের নির্দিষ্ট কোনো আমল ভুলে যাওয়ার কারণে নামাজের কাঠামোতে অনিচ্ছাকৃত পরিবর্তন হলে সাহু সিজদার বিধান আসতে পারে।
ভুলবশত নামাজে অতিরিক্ত কোনো রাকাআত বা অনুরূপ অতিরিক্ত কাজ হয়ে গেলে বিষয়টি আলাদা করে সংশোধন করতে হয় এবং সাহু সিজদার বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
নামাজের রাকাআত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে হাদিসে বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়।
সন্দেহের ধরন এবং নামাজের পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধান ভিন্ন হতে পারে। তাই নিয়মিত এমন সমস্যা হলে যোগ্য আলেমের কাছ থেকে বিস্তারিত মাসআলা জেনে নেওয়া উচিত।
নামাজের কোনো কাজ ভুলে তার নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সাহু সিজদার প্রয়োজন হতে পারে।
সাহু সিজদার পদ্ধতিতে ফিকহি মতভেদ রয়েছে। নিচে একটি পরিচিত পদ্ধতি সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
নামাজের শেষ বৈঠকে বসে তাশাহহুদ পাঠ করুন।
তাশাহহুদ দেখুন →এরপর দুইটি সিজদা করতে হয়।
সাধারণ সিজদার মতোই দুইটি সিজদা করা হবে।
দুই সিজদা সম্পন্ন করার পর আবার বসতে হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া পাঠ করে সালাম দিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।
সাহু সিজদা সালামের আগে নাকি পরে করা হবে—এ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসের ভিত্তিতে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সালামের আগে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সালামের পরে সাহু সিজদা করার বর্ণনা পাওয়া যায়।
তাই আপনি যে মাজহাব বা নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছ থেকে নামাজের পদ্ধতি শিখছেন, তার নির্দেশনা অনুসরণ করা উত্তম।
নামাজ পড়তে গিয়ে কখনো মনে হতে পারে দুই রাকাআত পড়েছি নাকি তিন রাকাআত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে।
যদি কোনো ব্যক্তির কাছে একটি দিক বেশি শক্তিশালী মনে হয়, তাহলে সে সেই অনুযায়ী নামাজ পূর্ণ করবে এবং সাহু সিজদা করবে।
আর যদি কোনো দিকই নিশ্চিত না হয়, তাহলে নিশ্চিত সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে নামাজ পূর্ণ করার নির্দেশনা হাদিসে এসেছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত মাসআলা পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই বারবার এমন সমস্যা হলে আলেমের কাছ থেকে বাস্তব উদাহরণসহ শিখে নিন।
নামাজে সামান্য ভুল হলেই যে সাহু সিজদা করতে হবে—বিষয়টি এমন নয়।
নির্দিষ্ট ভুলের ক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা জানতে যোগ্য আলেমের কাছে প্রশ্ন করুন।
সাহু সিজদা মূলত অনিচ্ছাকৃত ভুলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দেয়, তাহলে শুধু সাহু সিজদা করে বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না।
নামাজকে তাড়াহুড়ো করে না পড়ে ধীরস্থিরভাবে এবং মনোযোগের সঙ্গে আদায় করার চেষ্টা করুন।
নামাজে যেকোনো ছোট ভুল হলেই সাহু সিজদা করতে হবে।
সঠিক নয়। ভুলের ধরন অনুযায়ী বিধান নির্ধারিত হয়।
সাহু সিজদা করলে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়া যাবে।
সঠিক নয়। ইচ্ছাকৃত ত্রুটির বিধান আলাদা।
সাহু সিজদার পদ্ধতিতে কোনো মতভেদ নেই।
সঠিক নয়। সালামের আগে বা পরে সাহু সিজদা করার বিষয়ে ফিকহি মতভেদ রয়েছে।
ধরুন, আপনি চার রাকাআত নামাজ পড়ছেন। শেষের দিকে আপনার মনে হলো আপনি তিন রাকাআত পড়েছেন নাকি চার রাকাআত—এ নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।
এ অবস্থায় হাদিসে বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী সন্দেহের ধরন বিবেচনা করে নামাজ পূর্ণ করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সাহু সিজদা করতে হবে।
বাস্তব পরিস্থিতিতে ঠিক কী করতে হবে তা নির্ভর করে সন্দেহটি কীভাবে হয়েছে এবং আপনার কাছে কোন দিকটি বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে তার ওপর।
দুই রাকাআত নামাজের পূর্ণ পদ্ধতি ধাপে ধাপে শিখুন।
বিস্তারিত দেখুন →নামাজে পড়ার প্রয়োজনীয় দোয়া ও সূরা শিখুন।
বিস্তারিত দেখুন →এশার নামাজের পদ্ধতি ধাপে ধাপে জানুন।
বিস্তারিত দেখুন →