তারাবিহ কী?
তারাবিহ পরিচয় ও শরিয়তসম্মত অবস্থান জানুন।
পড়ুন →রমজান মাসের বিশেষ নফল নামাজ তারাবিহ ফজিলত, সময়, রাকাআত, জামাতে আদায়ের পদ্ধতি, কুরআন খতম ও গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সহজভাবে জানুন।
রমজান মাসে এশার নামাজের পর যে বিশেষ রাতের নফল নামাজ আদায় করা হয়, তাকে তারাবিহ নামাজ বলা হয়।
‘তারাবিহ’ শব্দটি আরবি ‘তারবীহাহ’ শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো বিশ্রাম নেওয়া।
দীর্ঘ কিয়ামের কারণে সালাফদের আমলে নামাজের মাঝে বিরতি নেওয়ার প্রচলন ছিল।
তারাবিহ রমজান মাসের বিশেষ ইবাদত এবং এটি এশার ফরজ নামাজের অংশ নয়।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ রমজানের রাতের কিয়াম সম্পর্কে উৎসাহিত করেছেন।
مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
অর্থ: যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
সূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।
তারাবিহ সময় এশার নামাজ আদায়ের পর শুরু হয় এবং ফজরের সময় শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত থাকে।
এশার ফরজ ও সুন্নাহ আদায়ের পর তারাবিহ পড়া হয়।
এরপর বিতর আদায় করা হয়।
মসজিদভেদে তারাবিহ জামাতের সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। স্থানীয় মসজিদের সময়সূচি অনুসরণ করুন।
তারাবিহ রাকাআত সংখ্যা নিয়ে মুসলিম আলেমদের মধ্যে ফিকহি মতভেদ রয়েছে।
বিভিন্ন হাদিস ও সাহাবিদের আমলকে ভিত্তি করে আলেমরা বিভিন্ন মত উল্লেখ করেছেন।
উপমহাদেশে ২০ রাকাআত তারাবিহ আমল ব্যাপকভাবে প্রচলিত এবং হানাফি ফিকহে এটি গ্রহণযোগ্য ও প্রসিদ্ধ মত।
অন্যদিকে কিছু আলেম ৮ রাকাআতের মতও গ্রহণ করেছেন।
তাই এই ফিকহি মতভেদকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের মধ্যে ঝগড়া বা বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
প্রথমে এশার ফরজ ও সংশ্লিষ্ট সুন্নাহ নামাজ আদায় করুন।
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবিহ নামাজ আদায়ের নিয়ত করুন।
সাধারণ নফল নামাজের নিয়মে দুই রাকাআত করে নামাজ আদায় করা হয়।
দুই রাকাআত শেষে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন।
নির্ধারিত সংখ্যক রাকাআত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত দুই রাকাআত করে নামাজ আদায় করা হয়।
তারাবিহ শেষে বিতর নামাজ আদায় করা হয়।
দীর্ঘ কিয়ামের কারণে তারাবির নামাজের মাঝে কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার প্রচলন রয়েছে।
এ কারণেই নামাজটির নাম ‘তারাবি’—অর্থাৎ বিরতি বা বিশ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিরতির সময় অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, হাসি-তামাশা ও এমন কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত যা ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট করে।
রমজান হলো কুরআনের মাস। তাই তারাবিহতে কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
অনেক মসজিদে রমজানের পুরো মাসে তারাবিহের মাধ্যমে সম্পূর্ণ কুরআন খতম করা হয়।
তবে কুরআন খতমের জন্য এমন দ্রুত তিলাওয়াত করা উচিত নয় যাতে হরফ, শব্দ বা অর্থের প্রতি অবিচার হয়।
ইমামকে কুরআন স্পষ্ট, শুদ্ধ ও যথাসম্ভব সুন্দরভাবে পড়ার চেষ্টা করতে হবে।
জামাতে তারাবিহ আদায় করলে মুক্তাদির জন্য ইমামের অনুসরণ করা জরুরি।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ
অর্থ: ইমামকে অনুসরণ করার জন্যই ইমাম বানানো হয়েছে।
সূত্র: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
তারাবিহ নামাজ শেষে বিতর নামাজ আদায় করা হয়।
রমজানে অনেক মসজিদে তারাবিহের জামাতের পর ইমামের সঙ্গে বিতরও জামাতে আদায় করা হয়।
বিতরের রাকাআত ও পদ্ধতিতে ফিকহি মাজহাবভেদে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
আপনার অনুসৃত নির্ভরযোগ্য মাজহাব বা স্থানীয় আলেমের নির্দেশনা অনুযায়ী বিতর আদায় করুন।
নারীরাও রমজানের রাতে তারাবিহ নামাজ আদায় করবেন।
নারীদের জন্য ঘরে নামাজ আদায় করা উত্তম হওয়ার ব্যাপারে হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে।
কেউ মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে চাইলে শরিয়তের শালীনতা, নিরাপত্তা ও স্থানীয় ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা উচিত।
কেউ অসুস্থ, বয়স্ক বা শারীরিকভাবে দুর্বল হলে তার সামর্থ্য অনুযায়ী নফল নামাজ আদায় করবেন।
নিজের শারীরিক সামর্থ্যের বাইরে কষ্ট করা জরুরি নয়।
তবে সক্ষম ব্যক্তির ইবাদতকে কষ্টকর মনে করে অযথা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।
কেউ জামাতে দেরিতে এসে কিছু রাকাআত না পেলে, ইমামের সঙ্গে যে অংশ পায় তা আদায় করবে।
ইমামের সালামের পর বাকি রাকাআত কীভাবে পূরণ করতে হবে—এ বিষয়ে মাজহাবভেদে বিস্তারিত মাসআলা রয়েছে।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
ফিকহি মতভেদকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের মধ্যে বিবাদ করা উচিত নয়।
দ্রুত পড়তে গিয়ে কুরআনের হরফ ও শব্দ নষ্ট করা উচিত নয়।
জামাতে ইমামের অনুসরণ করতে হবে।
তারাবিহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কুরআন তিলাওয়াত শোনা ও ইবাদত করা।
বিরতির সময় ইবাদতের পরিবেশ বজায় রাখুন।
রাত জাগার কারণে যেন ফজরের ফরজ নামাজ ছুটে না যায়।
মনোযোগ দিয়ে ইমামের কিরাআত শুনুন।
রমজানের বরকতময় সময়ে বেশি বেশি দোয়া করুন।
আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চান।
তিলাওয়াতের পাশাপাশি কুরআনের অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করুন।
তাহাজ্জুদের সময়, রাকাআত ও পদ্ধতি জানুন।
বিস্তারিত দেখুন →নামাজে পড়ার প্রয়োজনীয় দোয়া ও সূরা শিখুন।
বিস্তারিত দেখুন →এশার নামাজের পদ্ধতি বিস্তারিত জানুন।
বিস্তারিত দেখুন →